পাহাড়ি জমিতে সবজি চাষে সফল আব্দুল আউয়াল

স্থানটা হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার লালচান্দ চা বাগানের বধ্যভূমির একটু দূরে। চারদিকে চা গাছ। পাশে ছোট ছড়া। এরমধ্যে পাহাড়ি পতিত প্রায় ১০০ শতক জমি। এ জমিতে সবজি চাষ করেছেন উপজেলার রমাপুরের বাসিন্দা কৃষক আব্দুল আউয়াল। কুমড়া, কাঁচা মরিচ, ঝিঙ্গা, বরবটি, বেগুন চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষক আব্দুল আউয়াল।

তিনি জানান, এ মৌসুমে এসব সবজি চাষে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। নিজের কঠোর পরিশ্রমে উৎপাদিত বরবটি, ঝিঙ্গা, বেগুন, কুমড়া, কাঁচা মরিচ বিক্রি করছেন। লাভবানও হয়েছেন, এতে তিনি উচ্ছ্বসিত। ক্ষেতে প্রয়োগ করেছেন গোবরের সঙ্গে অল্প পরিমাণে স্যার। তাতে ফলন ভালো হয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে পোকার আক্রমণ দেখা দিলে ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। এ মৌসুমে ক্ষেতের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

আব্দুল আউয়াল বলেন, সঠিকভাবে পরিশ্রম করলে ভালো ফলন আশা করা যায়। প্রতিদিনই ক্ষেতে আসতে হয়। আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হয়। না হলে পোকার আক্রমণ বেড়ে যায়। সবজি চাষে আগে খরচ করতে হয়। তারপর জমিতে ভালো ফলন হলে আয়ের পথ তৈরি হয়। কৃষির আয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করতে হচ্ছে। আমাকে সরকারিভাবে কিছু আর্থিক সহায়তা করা হলে চাষে আরও ভালো করবো বলে আশাবাদী।

কৃষক আব্দুল আউয়াল কঠোর পরিশ্রম করেন। এ কারণে তার জমিতে সবজির ভালো ফলন হয়েছে। তার সবজি চাষ দেখে পাহাড়ি এলাকার পতিত জমিতে অন্য কৃষকরাও সবজি চাষ করে সফল। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তমিজ উদ্দিন খান বলেন, কৃষক আব্দুল আউয়ালের কথা শুনে অত্যন্ত ভালো লেগেছে। তাদের মতো কৃষকরা জেলার স্থানে স্থানে আছে বলেই সবজি উৎপাদনে হবিগঞ্জ অনেক এগিয়েছে। কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ আছে। যেকোনো পরামর্শ ও সার্বিক সহায়তায় হবিগঞ্জ কৃষি বিভাগ প্রস্তুত।

About admin

Check Also

শ্রমিকদের সারাজীবনের আয়ের সমান

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের সারাজীবনের আয়ের সমান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *