বাড়ি থেকে পালানো কিশোরীকে পতিতালয়ের বিক্রির হুমকি প্রেমিকের

কয়েক মাস আগে অনলাইনে দুর্জয় নামের এক ছেলের সঙ্গে কিশোরী নুসরাতের (ছদ্মনাম) পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে তাদের সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। প্রেমের টানে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ঈদের দিন ঘর ছাড়ে কিশোরী। কিন্তু বাড়ি ছাড়ার পরই প্রেমিকের আসল রূপ দেখতে পায় সে। মুক্তিপণ না দিলে তাকে দৌলতিয়ার পতিতালয়ে বিক্রির হুমকি দেয় প্রেমিক দুর্জয়। অবশেষে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। শুক্রবার রাজবাড়ির পাংশা থানার সরিষা ইউপির পিড়ালীপাড়া গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণের অভিযোগে দুর্জয়কে আটক করে পুলিশ।

বাংলা‌দেশ পু‌লিশের এআইজি (মি‌ডিয়া অ্যান্ড পাব‌লিক রি‌লেশন্স) মো. সো‌হেল রানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্জয় নামের এক যুবক কিশোরী অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করছে- বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইংকে এমনই একটি বার্তা প্রেরণ করা হয়। বার্তা পেয়েই অনতিবিলম্বে মুক্তাগাছা থানার ওসি মোহাম্মদ দুলাল আকন্দকে বার্তাটি প্রেরণ করে দ্রুততম সময়ে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। মুক্তাগাছার ওসি প্রযুক্তির সহায়তায় ও প্রাথমিক তদন্তে মেয়েটির বর্তমান অবস্থান রাজবাড়ির পাংশা থানার অন্তর্গত একটি এলাকায় বলে জানতে পারেন।

তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তাগাছার ওসির সঙ্গে সমন্বয় করে অপহৃত মেয়েটিকে উদ্ধার করতে পাংশা থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানকে নির্দেশনা দেয় পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কিশোরীকে উদ্ধার করতে পাংশা থানার ওসি এসআই মাসুদুর রহমান ও এসআই মো. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে দুটি টিমকে নিয়োজিত করেন। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সাইবার ও ডি‌বি টিমসহ পুলিশের একাধিক টিমের নিরলস প্রচেষ্টায় কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া অপহরনকারী হিসেবে চিহ্নিত দুর্জয়কে আটক করা হয়। এতে সহায়তা করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজমল আল বাহার। তিনি আরো জানান, উদ্ধার অভিযানসহ অপারেশনাল সার্বিক বিষয়াদি তত্ত্বাবধান করেছেন রাজবাড়ির এসপি এমএম শাকিলুজ্জামান ও ময়মন‌সিংহের এসপি মোহা. আহমার উজ্জামান। মেয়েটিকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কয়েক মাস আগে অনলাইনে পরিচয়ের সূত্র ধরে দুর্জয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে কিশোরীর।

এক পর্যায়ে বাড়ির কাউকে না জানিয়ে দুর্জয়ের সঙ্গে পালিয়ে যায় কিশোরীটি। দুর্জয় মেয়েটিকে প্রথমে তার নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। তারপর সেখান থেকে তার নানাবাড়িতে রেখে আসে। কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সে দুর্জয়কে ভালবাসে এবং তার সঙ্গেই থাকতে চায়। মো. সোহেল রানা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্জয়ের দিকের কেউ বা এলাকার কোনো দুষ্টচক্র কোনোভাবে কিশোরীর পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে দুর্জয় ও মেয়েটির পরিবারের দুর্বলতার সুযোগে কিছু সুবিধা আদায় করতে চেয়েছিল। এ বিষয়ে তদন্ত করে অপরাধীদের খুঁজে বের করে শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

About jacob nil

Check Also

স্ত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে ছুটে আসলেন করোনা আক্রান্ত স্বামী

স্বামী-স্ত্রী দুজনই ছিলেন করোনায় আক্রা,ন্ত। কিন্তু জীবনযুদ্ধে হেরে শনিবার ভোরে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!